মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st ডিসেম্বর ২০১৫

অধিদপ্তর পরিচিতি

ভূমিকাঃ

 

বসবাসের জন্য আচ্ছাদন নির্মাণের প্রয়োজন থেকে স্থাপত্যের সূচনা। দৈনন্দিন জীবন যাপনের চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশ ও পরিসর সৃষ্টির প্রাথমিক উদ্দেশ্য নিয়েই স্থাপত্য শিল্পের সৃষ্টি। জীবন যাপনের বিভিন্ন অনুসঙ্গের প্রয়োজনবীয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে জীবন যাত্রার জটিলতা। বসবাসের মূল চাহিদার পাশাপাশি আনুষঙ্গিক সামাজিক, রানৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চাহিদার প্রয়োজনও বিস্তার লাভ করেছে। বাসস্থান সৃষ্টির সীমিত গন্ডি পেরিয়ে স্থাপত্য প্রবেশ করেছে মানুষের বহুমুখী ব্যবহারিক, সামাজিক, আধ্যাত্নিক, অর্থনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পরিমন্ডলে। অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতির মত প্রবল সামাজিক শক্তি থেকেই দেশ বা সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল স্থাপথ্যের উদ্ভব হয়। স্থাপত্য তাই যে কোন সমাজের প্রতীক ও স্মারক। বাংলাদেশের স্থাপত্য সংস্কৃতির রূপ একই ধরনের মননশীল চাহিদা এাবং চেতনা থেকে উৎসারিত। জানা তথ্যমেত এই ভূখন্ডের প্রাচীনতম স্থাপত্য নির্দশন খৃষ্ট-পূর্ব ৩য় শতাব্দীতে নির্মিত হয় মহাস্থানগড়ে। ঐতিহ্যমন্ডিত ধারাবাহিকতায় পাহাড়পুর, ময়নামতি, গৌড় এর স্বর্ণযুগ পেরিয়ে সুলতানী, মোঘল, বৃটিশ উপনিবেশিক কালের সৃষ্টি শীলতার ধারাক্রমে তা এখন বর্তমানে দাঁড়িয়েছে।

 

আমাদের পরিবেশ ও সমাজের সার্বিক পরিচয় বহন করে স্থাপত্য। যে কোন অঞ্চলের ভৌগলিক গঠন ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল সে অঞ্চলের স্থাপত্য রীতি তৈরীতে এক বিশেষ ভূমিকা রাখে।বাংলাদেশের স্থাপত্য রীতি তৈরী হয়েছে সেই একই আঙ্গিকে। এখানকার আবহাওয়ুা, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি/অনুশাসন, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতি সব কিছুিই নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের স্থাপত্যকে।

 

প্রাচীন যুগের গুহা-মানবের শিল্প রোধ ও চেতনা থেকে শুরু করে মধ্যযুগের শুরু-শিষ্যের পরম্পরা অতিক্রান্ত হয়ে স্থাপত্য আধুনিক কালে অনুতম একটি গুরুত্ববহ কারিগরী পেশা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বিভিন্নমুখী বিশেষজ্ঞের সম্মিলিত প্রয়াসে স্থাপত্য সৃষ্টি হলেও এর মূল কারিগর স্থপতি (Architect)। স্থপতি তাঁর শিক্ষালব্ধ, জ্ঞানলব্ধ, স্বপ্ন ও কল্নপনালব্ধ মননশীলতা দিয়ে স্থাপত্য হিসাবে অভিহিত একটা ব্যবহারিক ও সামাজকি শিল্পরূপ তৈরী করেন। স্থাপত্য শিল্প অন্যান্য শিল্পকর্মের তুলনায় একটি জটিল সময়সাপেক্ষ শিল্প মাধ্যম। কারণ প্রত্যাশী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অর্থ, স্থান, রুচি, সামাজিক অবস্থা, নির্মাণ উপকরণ, কারিগরী কুশলতা ইত্যাদি বহু কিছুর উপর এই শিল্পকর্ম নির্ভর করে থাকে। স্থাপত্য ব্যক্তিবিশেষের প্রভাব হতে শুরু করে প্রাকৃতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রাযুক্তিক সকল প্রকার প্রভাবে প্রভাবান্বিত এক শিল্পকর্ম। স্থাপত্য শিল্প তাই একটি ব্যবহারিক ও সামাজিক শিল্পরূপ।

 

 

স্থাপত্য অধিদপ্তরঃ

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের অধীনে স্থাপত্য অধিদপ্তর একমাত্র প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন ও স্থাপত্য বিষয়ক যাবতীয় পরিসেবা প্রদান করে থাকে। শুধুমাত্র স্থাপত্য নক্শা, জরীপ, Master Plan, Layout Planইত্যাদি প্রনয়ণই নয়, বরং সরকারী দপ্তর ও আবাসন সমূহের জন্য ``Space Standards’’নির্ধারণ থেকে শুরু করে মানব বসতি ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ প্রদান এবং বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাকে তাদের নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভূমির চাহিদা নিরুপনে স্থাপত্য অধিদপ্তর সহায়তা করে থাকে।

 

এই অধিদপ্তর বর্তমানে প্রধান স্থপতিসহ একজন অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি, ছয়জন উপ-প্রধান স্থপতি, সহকারী  প্রধান স্থপতি ১৬জন, সহকারী স্থপতি ৪৮জন এবং অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে মোট ২৭৭ জনের জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সঠিক বৃহৎ ও বাস্তবমুখী প্রকল্প সম্পাদনের স্থাপত্য অধিদপ্তর সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

 

এখানে উল্লেখ্য যে স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ (পরবর্তীতে সংশোধনসহ) অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত সকল ইমারত প্রকল্পের এক্স অফিসিও ‘‘অথরাইজড অফিসার’’। বাংলাদেশে ইমারত নির্মানে প্রযোজ্য সকল আইন, বিধি, বোর্ড, নীতিমালা ইত্যাদি যথাযথ অনুসরনপূর্বক প্রকল্পের স্থাপত্